জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকাশে বড় পরিকল্পনা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে স্থবির হয়ে পড়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থবির হয়ে পড়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির সম্প্রতি ঘোষিত মেরিটাইম অ্যাকশন প্ল্যান বা সামুদ্রিক কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক ব্যবসা খাতকে ঢেলে সাজানো। খবর রয়টার্স।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্প ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়েছে। বর্তমানে খাতটিতে চীন ও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংকট কাটাতে ৩০ পৃষ্ঠারও বেশি দীর্ঘ একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এতে মেরিটাইম প্রসপারিটি জোন বা সামুদ্রিক সমৃদ্ধি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।

বড় এ কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অর্থের একটি অংশ আসবে বিশেষ বন্দর ফি থেকে। চীনে তৈরি জাহাজে করে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, সেগুলোর ওপর এটি আরোপ করা হবে। গত বছর ফি কার্যকর করার পর বিশ্বজুড়ে শিপিং ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েল। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনও মার্কিন জাহাজের ওপর ফি বসায়। এতে সৃষ্ট অস্থিরতা কাটাতে দুই দেশই ১২ মাসের জন্য এ ফি স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে চীনের সামুদ্রিক আধিপত্য কমাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মেরিটাইম সিকিউরিটি ট্রাস্ট ফান্ড নামে বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ ও বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আনা শিপবিল্ডিং অ্যান্ড হারবার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর প্রসপারিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিলের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের এ পরিকল্পনার অনেক মিল রয়েছে। ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর টড ইয়াং ও অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলিসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিলটি পুনরায় উত্থাপন করেছেন।

সিনেটর টড ইয়াং উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বাস্তব রূপ দিতে কংগ্রেসের উচিত দ্রুত বিলটি পাস করা। এখন সময় এসেছে আবারো যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজ তৈরির।’

মার্কিন জাহাজ মালিক ও বিনিয়োগকারীরা ‘সময়োপযোগী’ উল্লেখ করে এ পরিকল্পনার প্রশংসা করেছেন। এ প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে এ খাতে নীতি শিথিল ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

আরও